২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তে বড় চাপের মুখে পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত না হলে বিশাল আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই শেষ মুহূর্তে পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত বদলাতে রাজি করাতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে সংস্থাটি।
ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি আইসিসির সামনে তিনটি শর্ত উত্থাপন করেছেন। শর্তগুলো মানা হলে ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে পাকিস্তান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাকভির প্রথম শর্ত—আইসিসির রাজস্ব বণ্টনে পাকিস্তানের অংশ বাড়াতে হবে। দ্বিতীয় শর্ত—ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সিরিজ পুনরায় চালু করতে হবে। তৃতীয় শর্ত হিসেবে তিনি চান, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতীয় ক্রিকেটাররা পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সঙ্গে স্বাভাবিক ক্রীড়া সৌহার্দ্য বজায় রেখে হাত মেলাবেন।
অন্যদিকে এনডিটিভির খবরে ভিন্ন তিনটি শর্তের কথা বলা হয়েছে। সেগুলো হলো—বাংলাদেশকে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দেওয়া, বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়লেও অংশগ্রহণ ফি প্রদান এবং ভবিষ্যতে আইসিসির কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজনের স্বত্ব পাকিস্তানকে দেওয়া।
ভারত–পাকিস্তান ম্যাচটি না হলে আইসিসির সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬১৫০ কোটি টাকা হতে পারে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে রোববার লাহোরে জরুরি বৈঠকে বসে আইসিসি। সেখানে পিসিবি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও উপস্থিত ছিলেন।
ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে চলতি বিশ্বকাপ থেকেই বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় আইসিসি। এরপরই পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
সূত্র জানায়, লাহোরে প্রায় পাঁচ ঘণ্টার বৈঠকে তিন পক্ষ সমঝোতার চেষ্টা চালায়। বাংলাদেশকে ক্ষতিপূরণসহ কয়েকটি সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে আইসিসি, ফলে পরিস্থিতি কিছুটা ইতিবাচক দিকে এগিয়েছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
ভারত ম্যাচ ইস্যুতে মহসিন নাকভি আপাতত নমনীয় অবস্থানে থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার সঙ্গে বৈঠক করবেন নাকভি। প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেত মিললেই বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে পাকিস্তান।






















