• আজ ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ|২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
শিরোনাম
 দুর্নীতি ও ভুল নীতিতে স্বাস্থ্যখাত বিপর্যস্ত: প্রতিমন্ত্রী মুহিত | সাত জেলায় ই-বেইলবন্ড চালু, বিচার ব্যবস্থায় ডিজিটাল অগ্রগতির সূচনা | খাতা মূল্যায়নে কঠোরতা, ‘যা লিখবে তাই নম্বর’—শিক্ষামন্ত্রী মিলন | বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন কাল, প্রস্তুতি সম্পন্ন | তারেক রহমান ও কোকোকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ স্বীকৃতির দাবি এমপি মুজিবুর রহমানের | পটুয়াখালী কারাগারের দুর্নীতি নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশে তোলপাড়। এডিএম ও জেল সুপারের দফায় দফায় বৈঠক, অভিযোগ ধামাচাপার নানা কৌশল | অভিযোগের তীর এডিএম এর দিকে পটুয়াখালী কারাগারের ক্যান্টিন বাণিজ্য, কারারক্ষীদের অসন্তোষ। পর্ব-৩ | পটুয়াখালী জেলা কারাগারের জেল সুপারের কান্ড, নিজের দূর্নীতি আড়াল করতে, তড়িঘড়ি পদক্ষেপ (পর্ব–২) | পটুয়াখালী জেলা কারাগারে দূর্নীতির আখড়া, জেল সুপার প্রতি মাসে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি টাকা। (পর্ব–১) | জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট ‘হ্যাক’ কাণ্ড, আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে পুলিশের ভেতরেই চাঞ্চল্য। |

জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট ‘হ্যাক’ কাণ্ড, আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে পুলিশের ভেতরেই চাঞ্চল্য।

| অনলাইন ডেস্ক ১০:১৭ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ জাতীয়, ব্রেকিং

বিশেষ প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত ৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইন অডিটরিয়ামের পূর্ব পাশের সরকারি কোয়ার্টার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এ গ্রেপ্তারকে ঘিরে শুরু থেকেই উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের আগে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা, তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রাথমিক প্রতিবেদন এবং সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই রাতের আঁধারে ছরওয়ারে আলমকে গ্রেপ্তার খোদ পুলিশ কর্মকর্তারদের বিরুদ্ধেই উঠেছে অভিযোগ ।
একটি রাজনৈতিক পক্ষকে খুশি করতে পুলিশের উচ্চপর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা এই ঘটনায় ভূমিকা রেখেছেন বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তারা বলেন, এসবি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি (চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ) গোলাম রসুল, সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ছিবগাত উল্লাহ, শিল্প পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি গাজী জসিম উদ্দিন, পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর অতিরিক্ত আইজিপি কাজী ফজলুল করিম, সাবেক আলোচিত এস বি প্রধান মনিরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন) মো. সরওয়ার, ডিবি প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) এস এম মো. নজরুল ইসলাম এবং সিটিএসবির প্রধান ডিআইজি মীর আলী আশরাফ নিজ নিজ অবস্থান ধরে রাখতে বাহিনীর শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তারা নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এরকম কর্মকান্ডে জড়িত হন। এ সকল কর্মকর্তারা শুধু একটি দলকেই সুবিধা দেওয়ার জন্য নয় পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া কে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চালায় যা পুলিশ বাহিনীর ভেতরে নতুন করে অস্বস্তি ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। কার নির্দেশে বঙ্গভবনের এই কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হলো এ জন্য একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট মহল ।
বিষয়টি নিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যানের নির্বাচনীয় মুখপাত্র মাহাদী আমিন জানান জামাতের আমিরের অ্যাকাউন্ট হ্যাক বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও মনগড়া।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “যদি পুরো বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ায় করা হতো, তাহলে কোনো প্রশ্ন উঠতো না। কিন্তু এভাবে গ্রেপ্তার পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।” তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে বাহিনীর হারানো আস্থা পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে পড়বে।
এদিকে ছরওয়ারে আলমকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিভিন্ন মন্তব্যে এই ঘটনাকে ‘নতুন বন্দোবস্ত’ হিসেবে উল্লেখ করে কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে।
পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বঙ্গভবনের মতো স্থানে বসে একজন সরকারি কর্মকর্তার পক্ষে এককভাবে এমন কর্মকাণ্ড চালানো অসম্ভব। সেখানে সার্বক্ষণিক মনিটরিং থাকে। ফলে এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো বাস্তবতা রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
তারা আরও বলেন, অতীতে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনেক নিরপরাধ ব্যক্তি নির্যাতন এড়াতে পুলিশের শেখানো বক্তব্য দিতে বাধ্য হয়েছেন—যা এখন ‘ওপেন সিক্রেট’। একই ধরনের পরিস্থিতি এখানে ঘটেছে কিনা, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত স্বচ্ছ তদন্ত না হলে পুলিশের ভেতরে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে, যা ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করবে এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি দেশে-বিদেশে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

এ বিষয়ে মামলার অগ্রগতি ও তাদের সংশ্লিস্টতা জানতে ডিবি প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম, এসবি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি গোলাম রসুল এবং সিটিএসবির প্রধান ডিআইজি আলী আশরাফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হয়।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম ও ডিআইজি আলী আশরাফ কোনো জবাব দেননি। তবে এসবি প্রধান গোলাম রসুল বলেন, “যে কোনো মামলার তদন্ত স্পেশাল ব্রাঞ্চ করে থাকে।”