• আজ ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ|৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
শিরোনাম
 কারা অধিদপ্তরে ‘বিশেষ আস্থাভাজন’ কে এই নূর-ই আলম সিদ্দিকী? আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে প্রশ্নের মুখে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার | অন্তর্বর্তী সরকারে হামের টিকা আমদানি হয়নি : প্রধানমন্ত্রী | প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নোয়াব নেতাদের বৈঠক | দুর্নীতি ও ভুল নীতিতে স্বাস্থ্যখাত বিপর্যস্ত: প্রতিমন্ত্রী মুহিত | সাত জেলায় ই-বেইলবন্ড চালু, বিচার ব্যবস্থায় ডিজিটাল অগ্রগতির সূচনা | খাতা মূল্যায়নে কঠোরতা, ‘যা লিখবে তাই নম্বর’—শিক্ষামন্ত্রী মিলন | বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন কাল, প্রস্তুতি সম্পন্ন | তারেক রহমান ও কোকোকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ স্বীকৃতির দাবি এমপি মুজিবুর রহমানের | পটুয়াখালী কারাগারের দুর্নীতি নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশে তোলপাড়। এডিএম ও জেল সুপারের দফায় দফায় বৈঠক, অভিযোগ ধামাচাপার নানা কৌশল | অভিযোগের তীর এডিএম এর দিকে পটুয়াখালী কারাগারের ক্যান্টিন বাণিজ্য, কারারক্ষীদের অসন্তোষ। পর্ব-৩ |

কারা অধিদপ্তরে ‘বিশেষ আস্থাভাজন’ কে এই নূর-ই আলম সিদ্দিকী? আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে প্রশ্নের মুখে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার

| অনলাইন ডেস্ক ৪:৪৩ অপরাহ্ণ | মে ১৫, ২০২৬ জাতীয়, ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারাগার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার-এ কর্মরত ডেপুটি জেলার মোঃ নূর-ই আলম সিদ্দিকীকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গোপালগঞ্জ জেলার বাসিন্দা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ হওয়ার অভিযোগ তুলে কারা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টদের একাংশ।

কারাগারের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা হিসেবে পরিচিত ভর্তি শাখার দায়িত্বে রয়েছেন ডেপুটি জেলার মোঃ নূর-ই আলম সিদ্দিকী। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন মামলায় আটক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান, জামিন সংক্রান্ত ক্লিয়ারেন্স এবং কারা এলাকার বাইরে বের করে দেওয়ার মতো সংবেদনশীল কাজে তিনি ভূমিকা রাখছেন।

চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল কর্ণেল মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এক আদেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার-এ আসামি ভুল জামিনে মুক্তির ঘটনা তদন্ত ও উদঘাটনের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডেপুটি জেলার মোঃ নূর-ই আলম সিদ্দিকীকে। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়াও, সম্প্রতি National Intelligence Platform (NIP) ও Geo Location System বিষয়ক প্রশিক্ষণের জন্যও ডেপুটি জেলার মোঃ নূর-ই আলম সিদ্দিকীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়েও কারা প্রশাসনের ভেতরে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একটি মহলের দাবি, কারা বিভাগে আরও অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও কেন বারবার এই কর্মকর্তাকেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচন করা হচ্ছে—তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রশাসনিক অঙ্গনেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, নূর-ই আলম সিদ্দিকীর পূর্বের কর্মস্থল ছিল বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার। সেখানে সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল জাহিদ ফারুক শামীম আটক থাকাকালে তাকে বাড়ির রান্না করা খাবার ও মোবাইল ফোন সরবরাহ করার অভিযোগ ওঠে ডেপুটি জেলার নূর-ই আলম সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক ওই মন্ত্রীর দেখা-সাক্ষাৎ ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয়ও তার নিয়ন্ত্রণে ছিল। এমনকি সাবেক মন্ত্রী তাকে নিজের ছোট ভাই হিসেবে পরিচয় দিতেন বলেও দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও অভিযোগ রয়েছে, গোপালগঞ্জের বাসিন্দা হওয়ায় আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি নিজেকে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিতেন। আবার অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জামায়াত এবং বর্তমানে বিএনপি ঘনিষ্ঠ পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন মহলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, কারা অধিদপ্তরের নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার স্বার্থে ডেপুটি জেলার মোঃ নূর-ই আলম সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার মোঃ নূর-ই আলম সিদ্দিকী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কোথায় পেয়েছেন এ সব কথা, এসব ফালতু আলাপ বাদ দেন। আর মন চাইলে মিডিয়ায় প্রকাশ করুন, আমার কোনো আপত্তি নাই।” এই বলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

তার এমন প্রতিক্রিয়া ও আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে আরও সংযত ও দায়িত্বশীল বক্তব্য প্রত্যাশিত।

এদিকে, ডেপুটি জেলার মোঃ নূর-ই আলম সিদ্দিকী অভিযোগ অস্বীকার করলেও বিষয়গুলো নিয়ে কারা প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে আলোচনা ও প্রশ্ন থামছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমেই এ বিতর্কের অবসান হওয়া প্রয়োজন।”