• আজ ১৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ|৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
শিরোনাম
 হাইওয়ে পুলিশের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদ | কেএমপি কমিশনার জাহিদুল হাসানকে ঘিরে বিতর্ক, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোচনা | খুলনা বিভাগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ডিআইজি রেজাউল হক, অপপ্রচার নিয়ে প্রশ্ন | পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল ও স্বপ্নার ফাঁসির আদেশ | কারা অধিদপ্তরে ‘বিশেষ আস্থাভাজন’ কে এই নূর-ই আলম সিদ্দিকী? আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে প্রশ্নের মুখে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার | অন্তর্বর্তী সরকারে হামের টিকা আমদানি হয়নি : প্রধানমন্ত্রী | প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নোয়াব নেতাদের বৈঠক | দুর্নীতি ও ভুল নীতিতে স্বাস্থ্যখাত বিপর্যস্ত: প্রতিমন্ত্রী মুহিত | সাত জেলায় ই-বেইলবন্ড চালু, বিচার ব্যবস্থায় ডিজিটাল অগ্রগতির সূচনা | খাতা মূল্যায়নে কঠোরতা, ‘যা লিখবে তাই নম্বর’—শিক্ষামন্ত্রী মিলন |

নির্বাচন বিলম্ব চেষ্টার অভিযোগে সাবেক সচিব থেকে শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তারা আলোচনায়, মুখ খুলতেই হুমকির মুখে গণমাধ্যম

| অনলাইন ডেস্ক ৬:৫২ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ জাতীয়, ব্রেকিং

বিশেষ প্রতিনিধি:
বিভিন্ন সংশয় ও জল্পনা-কল্পনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি প্রশাসনের ভেতরেও ছিল অস্বস্তিকর নড়াচড়া। অভিযোগ উঠেছে, সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনের একটি অংশ নির্বাচন আয়োজন নিয়ে অনীহা দেখিয়ে পরোক্ষভাবে বিলম্বের চেষ্টা চালায়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে জনমনে ব্যাপক সংশয় ছিল—আদৌ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কিনা। তবে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হয় এবং একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি।
তবে নির্বাচনপূর্ব সময়ে প্রশাসনের একটি অংশের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।

অভিযোগ রয়েছে, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব শেখ আব্দুর রশিদ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব মোঃ মোখলেছুর রহমানসহ কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা নির্বাচন বিলম্বের পক্ষে সক্রিয় ছিলেন।
অন্যদিকে, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখস্ চৌধুরী, যিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন, তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ খাতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার প্রভাবেই পুলিশের শীর্ষ পদে আইজিপি হিসেবে বাহারুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে পদায়নের মাধ্যমে পুলিশের অভ্যন্তরে একটি প্রভাববলয় তৈরি করা হয়। এসবির প্রধান হিসেবে গোলাম রসুল, সিআইডি প্রধান হিসেবে ছিবগাত উল্লাহসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ এই প্রভাব বিস্তারের অংশ বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের পর তদবির ছাড়া পদায়ন পাওয়া এবং খোদা বখস্ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ নন—এমন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন অবহেলিত স্থানে বদলি করা হয়। খোদা বখস্ চৌধুরীর পূর্ববর্তী দায়িত্বকাল—এসবি প্রধান ও আইজিপি হিসেবে বিতর্কিত ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। এমনকি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর দায়িত্ব পালনকালেও তার কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলম, এসবি প্রধান থাকাকালে তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কারাবন্দি বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও ছাত্রনেতা নাসির উদ্দিন পিন্টুকে বিভিন্ন কারাগারে স্থানান্তর এবং বিষ প্রয়োগে মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল। একইভাবে, এসবি প্রধান গোলাম রসুল সিটি এসবির দায়িত্বে থাকাকালে পিলখানার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রসঙ্গও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এছাড়া পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। এদের মধ্যে রয়েছেন—
অতিরিক্ত আইজিপি ও পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর কাজী ফজলুল করিম, শিল্প পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি গাজী জসিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি ও অতিরিক্ত আইজিপি পদোন্নতিপ্রাপ্ত আহসান হাবিব পলাশ, অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ও অতিরিক্ত আইজিপি পদোন্নতিপ্রাপ্ত হাসিব আজিজ, অতিরিক্ত আইজিপি ও সিআইডি প্রধান ছিবগাত উল্লাহ, বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মঞ্জুর মোর্শেদ, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কুদ্দুস চৌধুরী, ডিএমপি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন) মোঃ সরওয়ার, ডিএমপি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) এস এম মোঃ নজরুল ইসলাম, ডিআইজি (ট্রেনিং) জিয়া উদ্দিন, ডিআইজি আবু সুফিয়ান, অতিরিক্ত ডিআইজি (ম্যানেজমেন্ট-১) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত ডিআইজি (ম্যানেজমেন্ট-২) আবদুল্লাহ আল জহির, অতিরিক্ত ডিআইজি (কল্যাণ) আহমেদ মুহিদ এবং অতিরিক্ত ডিআইজি মাহফুজ মামুন।
তাদের বিরুদ্ধেও নির্বাচন বিলম্বের অভিযোগ উঠে এসেছে, যা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার কুদ্দুস চৌধুরী হুমকি স্বরে বলেন,
“আপনি হলুদ সাংবাদিক, যত পারেন লিখেন। আপনার নাম-নম্বর লিখে রাখলাম, কয়েক দিনের মধ্যে দেখে নেব।”
চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজিপি পদোন্নতিপ্রাপ্ত) আহসান হাবিব পলাশ বলেন,
“ছাগল-পাগলে যা বলে বলুক, এতে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। আমি আমার কাজ চালিয়ে যাবো।”

এ বিষয়ে পুলিশের এক অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি বলেন,
“সরকারি দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর এমন আচরণ কাম্য নয়। অভিযোগ উঠলে সেটির জবাব দেওয়া সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসনের ভেতরে এমন বিভাজন, বিতর্কিত পদায়ন ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য উদ্বেগজনক। একইসঙ্গে গণমাধ্যমকে হুমকি দেওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।