নিজস্ব প্রতিবেদক: পটুয়াখালী জেলা কারাগারের বাহির ক্যান্টিন পরিচালনা নিয়ে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ তারেক হাওলাদার নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে প্রভাব খাটিয়ে নিজের পছন্দের কারারক্ষীদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ঘিরে কারারক্ষীদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পটুয়াখালী জেলায় দায়িত্ব পালন এবং পদাধিকার বলে কারাগারের বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে একাধিক কারারক্ষীর সঙ্গে তারেক হাওলাদারের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি নিজের পছন্দের কিছু কারারক্ষীকে জেলা কারাগারের বাহির ক্যান্টিনে দায়িত্ব দিচ্ছেন।
ভুক্তভোগী একাধিক কারারক্ষী অভিযোগ করে বলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তারেক হাওলাদারের পছন্দে দায়িত্ব পাওয়া কারারক্ষীরা কোন কিছুর তোয়াক্কা করছেন না। বরং তারা অন্যান্য কারারক্ষীদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে বলেন, “বেশি বাড়াবাড়ি করলে অন্যত্র বদলি করে দেওয়া হবে।”
আরও জানা গেছে, কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) এর নির্দেশনা উপেক্ষা করে সিনিয়র কারারক্ষীদের বঞ্চিত করে জুনিয়রদের ক্যান্টিনে দায়িত্ব দেওয়ায় কারাগারের ভেতরে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে আরেকটি গুরুতর অভিযোগ হলো, ক্যান্টিনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই কারারক্ষীরা তারেক হাওলাদার ও জেল সুপারের প্রভাব খাটিয়ে দর্শনার্থীদের কাছে বাজারমূল্যের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দামে বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করছেন। এতে সাধারণ দর্শনার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ফলে ক্যান্টিনকে ঘিরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও দিন দিন জোরালো হচ্ছে।
অপরদিকে কারাগারের আরেকটি সূত্র জানায়, তারেক হাওলাদারের উপর ভর করে জেল সুপার বাহির ক্যান্টিন থেকে প্রতি মাসে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। দুই ক্ষমতার প্রভাবে অভিযুক্ত কারারক্ষীরা বীরদর্পে চালিয়ে যাচ্ছেন সকল প্রকার অনৈতিক কর্মকাণ্ড।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ তারেক হাওলাদারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বার্তা পাঠানো হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি কোনো সাড়া দেননি।






















