লেবাননের উত্তরাঞ্চলের বন্দরনগরী ত্রিপোলিতে দুটি ঝুঁকিপূর্ণ আবাসিক ভবন ধসে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। স্থানীয় সময় রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
লেবাননের সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ইমাদ খ্রেইশ গণমাধ্যমকে জানান, ভবন ধসে এখন পর্যন্ত ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জীবিত উদ্ধার করা অন্তত ছয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ধসে পড়া ভবন দুটি পৃথক ব্লকে বিভক্ত ছিল এবং প্রতিটি ব্লকে ছয়টি করে অ্যাপার্টমেন্ট ছিল। স্থানীয়দের ধারণা, দুর্ঘটনার সময় ভবনের ভেতরে অন্তত ২২ জন অবস্থান করছিলেন।
ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা চলছে। সিভিল ডিফেন্সের পাশাপাশি লেবানিজ রেড ক্রিসেন্ট ও বিভিন্ন জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার কর্মীরা উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধার কাজে সহায়তা করছেন—ধ্বংসস্তূপ সরানো ও আটকে পড়াদের কাছে পৌঁছাতে ফাঁক তৈরি করতে তারা এগিয়ে আসেন।
ত্রিপোলির মেয়র আবদেল হামিদ কারিমেহ শহরটিকে ‘দুর্যোগ কবলিত’ ঘোষণা করার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণে ত্রিপোলির হাজারো মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাস করছেন, যা পৌরসভার সামর্থ্যের বাইরে চলে গেছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানায়, ধসে পড়া ভবনের আশপাশের আবাসিক ভবনগুলোও ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় সেখানকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ কাজে ইন্টারনাল সিকিউরিটি ফোর্সেস ও ত্রিপোলি পৌর পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।
এদিকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন উদ্ধার তৎপরতায় সব জরুরি সেবাকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য আশ্রয় নিশ্চিত করতে বলেছেন।
প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম এক বিবৃতিতে জানান, যেসব ভবন খালি করতে হবে সেসব বাসিন্দাদের জন্য সরকার বাসাভাড়া সহায়তা দিতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, বছরের পর বছর জমে থাকা অবহেলার ফলেই এ মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে এবং নিহতদের প্রতি সম্মান জানিয়ে ঘটনাটি যেন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করা হয়।
ঘটনার তদন্তে উত্তরাঞ্চলের পাবলিক প্রসিকিউটরকে নির্দেশ দিয়েছেন ন্যায়বিচারমন্ত্রী আদেল নাসসার। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে এনএনএ।






















