বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে ধর্ম ও বর্ণের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বিভেদ রাখা হবে না। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশকে ফুলের বাগানের মতো করে গড়ে তোলা হবে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার জুনাব আলী কলেজ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। কুমিল্লা–৫ (বুড়িচং–ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট ড. মুহাম্মদ মোবারক হোসাইনের নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে যারা চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও মানুষকে কষ্ট দেওয়ার রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, তাদের সহিংস পথ নয়—সুস্থ ও সৎ জীবনে ফিরে আসার জন্য সহযোগিতা করা হবে। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি ছেড়ে সৎ পথে ফেরার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতিতে জড়িত রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে তাদের বেতন-ভাতা এমনভাবে নির্ধারণ করা হবে, যাতে তারা পরিবার নিয়ে সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন।
নারীদের বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, পরিবার থেকে কর্মস্থল পর্যন্ত নারীদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করা হবে। নিরাপদ পরিবেশে যেন তারা মর্যাদার সঙ্গে চলতে পারেন, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
যুবসমাজকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি যুবককে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলতে চায় জামায়াতে ইসলামী। যুবকদের শক্তিশালী করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত ৫৪ বছরে বেইনসাফি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও সহিংসতার রাজনীতির মাধ্যমে দেশে ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী রাজপথে নেমেছে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, এ দেশের যুবসমাজ সব সময় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং আত্মত্যাগের মাধ্যমে স্বাধীনতা ও মুক্তির পথ দেখিয়েছে।
সমাবেশে উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, ১১ দলীয় জোটকে নির্বাচিত করলে জনগণের সঙ্গে কখনো অবিচার করা হবে না—এ প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা–৫ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ মোবারক হোসাইন। যৌথভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি ও প্রধান শিক্ষক মো. কবির হোসাইন এবং জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুল আউয়াল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম, ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিগবাতুল্লাহ। এ সময় ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।






















