• আজ ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ|২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
শিরোনাম
 দুর্নীতি ও ভুল নীতিতে স্বাস্থ্যখাত বিপর্যস্ত: প্রতিমন্ত্রী মুহিত | সাত জেলায় ই-বেইলবন্ড চালু, বিচার ব্যবস্থায় ডিজিটাল অগ্রগতির সূচনা | খাতা মূল্যায়নে কঠোরতা, ‘যা লিখবে তাই নম্বর’—শিক্ষামন্ত্রী মিলন | বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন কাল, প্রস্তুতি সম্পন্ন | তারেক রহমান ও কোকোকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ স্বীকৃতির দাবি এমপি মুজিবুর রহমানের | পটুয়াখালী কারাগারের দুর্নীতি নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশে তোলপাড়। এডিএম ও জেল সুপারের দফায় দফায় বৈঠক, অভিযোগ ধামাচাপার নানা কৌশল | অভিযোগের তীর এডিএম এর দিকে পটুয়াখালী কারাগারের ক্যান্টিন বাণিজ্য, কারারক্ষীদের অসন্তোষ। পর্ব-৩ | পটুয়াখালী জেলা কারাগারের জেল সুপারের কান্ড, নিজের দূর্নীতি আড়াল করতে, তড়িঘড়ি পদক্ষেপ (পর্ব–২) | পটুয়াখালী জেলা কারাগারে দূর্নীতির আখড়া, জেল সুপার প্রতি মাসে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি টাকা। (পর্ব–১) | জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট ‘হ্যাক’ কাণ্ড, আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে পুলিশের ভেতরেই চাঞ্চল্য। |

পটুয়াখালী জেলা কারাগারে দূর্নীতির আখড়া, জেল সুপার প্রতি মাসে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি টাকা। (পর্ব–১)

| অনলাইন ডেস্ক ১১:৩৬ অপরাহ্ণ | মার্চ ৯, ২০২৬ জাতীয়, ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালী জেলা কারাগার যেন দুর্নীতির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। নিয়মনীতি ও কারা বিধিমালা উপেক্ষা করে জেল সুপারসহ একাধিক অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রতি মাসে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ও ভুক্তভোগীদের ।
অভিযোগ রয়েছে, কারাগারের কেন্টিনে বন্দিদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাইরে বাজারের তুলনায় ৮ থেকে ১০ গুণ বেশি রাখা হয়। সেখানে প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি করা হয় ১৫০ টাকায় এবং শসা প্রতি কেজি ২০০ টাকায়। অন্যান্য পণ্যও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বন্দিদের স্বজনরা।
এছাড়া বন্দিদের প্রতিটি জামা-কাপড় দিতে ডিউটিরত কারারক্ষীকে দিতে হয় ৫০ টাকা। আদালত থেকে জামিন হওয়ার পরও ভর্তি শাখায় টাকা না দিলে বন্দিদের মুক্তি পেতে বিলম্ব করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, রাজনৈতিক মামলার বন্দিদের টার্গেট করে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এ ধরনের অনৈতিক কার্যক্রমে কারারক্ষী মাসুদ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার দাবিকৃত টাকা না দিলে কোর্ট ইন্সপেক্টরের মাধ্যমে নতুন মামলা দেখিয়ে বন্দিদের আটকে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
কারাগারের ভেতরে বন্দিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও অমানবিক আচরণের অভিযোগও রয়েছে কিছু কারারক্ষীর বিরুদ্ধে।
এদিকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে জামিনে মুক্তি পাওয়া জেলা ছাত্রলীগ নেতা রিয়াদের বাবার কাছ থেকেও জামিন প্রক্রিয়ায় সহায়তার নামে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কারাগারের ভেতরে চুল কাটার নামেও চলছে প্রকাশ্য অনিয়ম। অভিযোগ রয়েছে, “ম্যাড কামাল” বন্দিদের কাছ থেকে চুল কাটার জন্য ৩শত থেকে ৫শত টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। নির্ধারিত টাকা দিলে ভালোভাবে চুল কাটা হলেও টাকা না দিলে বন্দিদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয় বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ছাড়া কতিপয় অসাধু কারারক্ষীর মাধ্যমে কারাগারের ভেতরেই মাদক প্রবেশ করছে এবং সেখানে বসছে মাদকের আসর। এমনকি একাধিক ওয়ার্ডে মাদক বেচাকেনার অভিযোগও পাওয়া গেছে। মাদক বিক্রির দায়িত্বে রয়েছেন ম্যাড নোমান।
কারাগারের প্রতিটি ওয়ার্ডে থাকা “ম্যাড” বা দায়িত্বপ্রাপ্ত বন্দিরা সিট বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। একটি সিটের জন্য বন্দিদের কাছ থেকে ১৫শত থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া একাধিক বন্দি।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কারারক্ষীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মদদ দিচ্ছেন জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা। তিনি ২০২৩ সাল থেকে এ জেলায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মরত আছেন। স্থানীয়দের দাবি, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি ওই দলের প্রভাব খাটাতেন, পরে জামায়াত ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেন এবং বর্তমানে নতুন সরকারের সঙ্গে সখ্য গড়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
এদিকে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় পটুয়াখালী জেলা বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতা অভিযোগ করেন, কারাগারের কেন্টিনে রান্না করা একটি মুরগির দাম রাখা হয় ২৭শত টাকা। এছাড়া অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দামও বাইরে বাজারের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি।
এ অভিযোগ ওঠার পর জেল সুপার ক্ষুব্ধ হয়ে কারা কেন্টিনে বয়লার মুরগি, তেলাপিয়া ও পাঙ্গাশ মাছ ছাড়া অন্য কোনো খাবার রান্না করতে দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে বন্দিরা পছন্দমতো খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে অনেক বন্দি বাধ্য হয়ে না খেয়ে রোজা রাখছেন বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ রয়েছে, জেল সুপার নিজের খেয়ালখুশিমতো কারাগার পরিচালনা করছেন। তবে কারা অধিদপ্তরের কাছে তিনি দেখাচ্ছেন যে কেন্টিন থেকে কোনো লাভ হচ্ছে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. আতিকুর রহমান মুঠোফোনে বলেন,
“সব অভিযোগ মিথ্যা—এ কথা আমি বলবো না। অনেক অভিযোগের সত্যতাও আছে। তবে আমাকে দুইদিন সময় দিন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিস্তারিত জানাবো।”