• আজ ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ|৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
শিরোনাম
 কারা অধিদপ্তরে ‘বিশেষ আস্থাভাজন’ কে এই নূর-ই আলম সিদ্দিকী? আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে প্রশ্নের মুখে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার | অন্তর্বর্তী সরকারে হামের টিকা আমদানি হয়নি : প্রধানমন্ত্রী | প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নোয়াব নেতাদের বৈঠক | দুর্নীতি ও ভুল নীতিতে স্বাস্থ্যখাত বিপর্যস্ত: প্রতিমন্ত্রী মুহিত | সাত জেলায় ই-বেইলবন্ড চালু, বিচার ব্যবস্থায় ডিজিটাল অগ্রগতির সূচনা | খাতা মূল্যায়নে কঠোরতা, ‘যা লিখবে তাই নম্বর’—শিক্ষামন্ত্রী মিলন | বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন কাল, প্রস্তুতি সম্পন্ন | তারেক রহমান ও কোকোকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ স্বীকৃতির দাবি এমপি মুজিবুর রহমানের | পটুয়াখালী কারাগারের দুর্নীতি নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশে তোলপাড়। এডিএম ও জেল সুপারের দফায় দফায় বৈঠক, অভিযোগ ধামাচাপার নানা কৌশল | অভিযোগের তীর এডিএম এর দিকে পটুয়াখালী কারাগারের ক্যান্টিন বাণিজ্য, কারারক্ষীদের অসন্তোষ। পর্ব-৩ |

সারাদেশে নির্বাচনী হাওয়ায় বিএনপির গণজোয়ার, ভোটের মাঠে আশাব্যঞ্জক অবস্থানে ধানের শীষের প্রার্থীরা

| অনলাইন ডেস্ক ৭:৪০ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ জাতীয়, ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। শেষ মুহূর্তে এসে প্রতিদিনই বাড়ছে সাধারণ মানুষের আগ্রহ, অংশগ্রহণ ও উদ্দীপনা। এরই মধ্যে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা গণসংযোগ, পথসভা, উঠান বৈঠক ও জনসভায় ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় প্রার্থীদের ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে গণজোয়ার।
রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহর, জেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বিএনপির প্রচারণায় উপচে পড়ছে জনসমর্থন। বিশেষ করে তরুণ ভোটার, শিক্ষিত সমাজ, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে দলটির প্রতি বাড়তি আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

গত কয়েকদিনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন আসনে বিএনপির প্রার্থীদের গণসংযোগে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা গেছে। কোথাও কোথাও শত শত নেতাকর্মী ও সমর্থক নিয়ে প্রার্থীরা এলাকায় এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছেন।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সুশাসনের ঘাটতির কারণে মানুষ পরিবর্তন চায়। এবার তারা ভোটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বকে সুযোগ দিতে আগ্রহী।
ভোটারদের মতে, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনায় অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত একটি দল। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কার ও উন্নয়ন ভাবনা জনগণের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

ভোটারা বলেন, “আমরা উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র চাই। বিএনপির প্রার্থীরা নিয়মিত এলাকায় আসছেন, মানুষের কথা শুনছেন। তাই আমরা তাদের পাশেই আছি।”

এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা। ফেসবুক, ইউটিউব ও হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়ছে নির্বাচনী বার্তা ও ভিডিও।
তরুণ সমাজ মনে করছে, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের জন্য বিএনপিই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা দিয়েছে। সে লক্ষ্যে তরুণ ভোটাররা তাদের ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিপুল ভোটে ঢাকা-১৭ আসনে নির্বাচিত করবেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে কাজ করছেন। দীর্ঘদিন পর অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশায় সবাই নতুন উদ্যমে মাঠে নেমেছেন।
প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও থানা পর্যায়ে গঠন করা হয়েছে নির্বাচনী টিম। ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে দলের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া বিএনপির প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি ও কর্মসংস্থানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছেন।
প্রার্থীরা বলছেন, “আমরা নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবো। জনগণের সঙ্গে নিয়ে কাজ করবো।”

সার্বিকভাবে সারাদেশের নির্বাচনী পরিবেশ এখন প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ হলে বিএনপির প্রার্থীরা ভালো ফল অর্জন করবেন বলে আশাবাদী দলীয় নেতারাও।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপির প্রার্থীরা শতাধীক গুরুত্বপূর্ণ আসনে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র ও বিভিন্ন সংস্থার তথ্যমতে, সম্ভাব্য ফলাফলে বিএনপি প্রায় ২২০টি আসন, জামায়াতে ইসলামী ৫৭টি, এনসিপি ২টি, জাতীয় পার্টি ৫টি, স্বতন্ত্র ১২টি এবং অন্যান্য দল ৪টি আসনে জয় লাভ করতে পারে।

সব মিলিয়ে সারাদেশের নির্বাচনী মাঠে বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে ইতিবাচক হাওয়া বইছে। জনগণের প্রত্যাশা, নেতাকর্মীদের ঐক্য ও শক্তিশালী প্রচারণার ফলে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আশাবাদী বিএনপি।
ভোটের দিন পর্যন্ত এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।