• আজ ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ|৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
শিরোনাম
 কারা অধিদপ্তরে ‘বিশেষ আস্থাভাজন’ কে এই নূর-ই আলম সিদ্দিকী? আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে প্রশ্নের মুখে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার | অন্তর্বর্তী সরকারে হামের টিকা আমদানি হয়নি : প্রধানমন্ত্রী | প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নোয়াব নেতাদের বৈঠক | দুর্নীতি ও ভুল নীতিতে স্বাস্থ্যখাত বিপর্যস্ত: প্রতিমন্ত্রী মুহিত | সাত জেলায় ই-বেইলবন্ড চালু, বিচার ব্যবস্থায় ডিজিটাল অগ্রগতির সূচনা | খাতা মূল্যায়নে কঠোরতা, ‘যা লিখবে তাই নম্বর’—শিক্ষামন্ত্রী মিলন | বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন কাল, প্রস্তুতি সম্পন্ন | তারেক রহমান ও কোকোকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ স্বীকৃতির দাবি এমপি মুজিবুর রহমানের | পটুয়াখালী কারাগারের দুর্নীতি নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশে তোলপাড়। এডিএম ও জেল সুপারের দফায় দফায় বৈঠক, অভিযোগ ধামাচাপার নানা কৌশল | অভিযোগের তীর এডিএম এর দিকে পটুয়াখালী কারাগারের ক্যান্টিন বাণিজ্য, কারারক্ষীদের অসন্তোষ। পর্ব-৩ |

পটুয়াখালী জেলা কারাগারের জেল সুপারের কান্ড, নিজের দূর্নীতি আড়াল করতে, তড়িঘড়ি পদক্ষেপ (পর্ব–২)

| অনলাইন ডেস্ক ১১:৩৮ অপরাহ্ণ | মার্চ ৯, ২০২৬ জাতীয়, ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক : পটুয়াখালী জেলা কারাগারে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে জেল সুপার মোহাম্মদ আতিকুর রহমান দুদিন সময় নিয়ে দূর্নীতির সহযোগীদের সঙ্গে পরামর্শ করে কারাগারের ভেতরে তড়িঘড়ি পদক্ষেপ নেন, যা অনেকেই ‘লোক দেখানো ব্যবস্থা’ হিসেবে দেখছেন।
কারাগার সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, জেল সুপারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কারারক্ষী দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ বাণিজ্য, মাদক বেচাকেনা এবং বন্দিদের বিভিন্ন সেবার নামে অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হলে তড়িঘড়ি করে দুই জনকে দায়িত্ব থেকে সরানো ও একজনকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে চালান দেয়া হয়।
সূত্র মতে, ঘুষ আদায়ের অভিযোগে কারারক্ষী মাসুদ এবং বন্দিদের কাছ থেকে চুল কাটার নামে টাকা আদায়ের অভিযোগে পরিচিত ‘ম্যাড কামাল’-কে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া কারাগারের ভেতরে মাদক বেচাকেনার অভিযোগে আলোচিত ম্যাড নোমান-কে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে চালান দেয়া হয়েছে। তবে ঘুষ, মাদকসহ অন্যান্য অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত আরও বেশ কয়েকজন কারারক্ষীর বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কারা ক্যান্টিনে খাদ্য দ্রব্য চড়া দামে বিক্রয় করা কারারক্ষীদের বিরুদ্ধেও নেয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কতিপয় কারারক্ষী জানিয়েছেন, ক্যান্টিন বানিজ্যের সাথে জড়িত কারারক্ষীদের শেল্টার দিচ্ছেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনে কর্মরত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ADM) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ তারেক হাওলাদার। এদের ক্ষমতার কাছে কারা কর্তৃপক্ষ অসহায়।

কারারক্ষী মাসুদের ঘুষ বাণিজ্য :
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, জামিনে মুক্তি পাওয়া বন্দিদের দ্রুত কারাগার থেকে বের হতে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কারারক্ষী মাসুদ বন্দিদের স্বজনদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘুষ আদায় করতেন।
বিশেষ করে রাজনৈতিক বন্দিদের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। টাকা না দিলে মুক্তির প্রক্রিয়া বিলম্বিত করা হতো বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।

কারাগারের ভেতরে মাদক সিন্ডিকেট :
পটুয়াখালী জেলা কারাগারের ভেতরে মাদক প্রবেশে কয়েকজন কারারক্ষী জড়িত। তবে বেচাকেনার সঙ্গে নোমান দায়িত্ন পালন করেছেন বলে জানিয়েছেন একাধিক বন্দি ও সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু কারা কর্মচারীর সহায়তায় কারাগারের ভেতরে নিয়মিত মাদক ঢোকানো হয়। পরে বিভিন্ন ওয়ার্ডে বসে সেই মাদক সেবন ও বেচাকেনা চলে প্রকাশ্যেই।

সেবা খাতে চাঁদাবাজি :
কারাগারের ভেতরে বন্দিদের মৌলিক সেবার ক্ষেত্রেও চলছে চাঁদাবাজি। বিশেষ করে চুল কাটার নামে পরিচিত ‘ম্যাড কামাল’ বন্দিদের কাছ থেকে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বন্দিদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও অপমানজনক ব্যবহার করা হতো বলেও অভিযোগ করেছেন একাধিক বন্দি।

সিট বাণিজ্যের নেপথ্যের চক্র :
কারাগারের ভেতরে সিট নিয়েও চলছে বাণিজ্য। অভিযোগ রয়েছে, ভালো জায়গায় থাকার জন্য বন্দিদের কাছ থেকে প্রতি সিট ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়।
কারাগারের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় এই বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ আতিকুর রহমান-এর বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি দুদিন সময় নেন। পরে তিনি আর ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।