ভেনেজুয়েলার চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসন এবং জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সাধারণ ক্ষমা আইনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি জানান, ১৯৯৯ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তিরা এই সাধারণ ক্ষমা আইনের আওতায় মুক্তি পাবেন।
চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী আটক হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার যে সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলো নিয়েছে, তার মধ্যে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিচারক, মন্ত্রী ও সামরিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দেওয়া ভাষণে রদ্রিগেজ বলেন, রাজনৈতিক সংঘাত ও চরমপন্থার কারণে সমাজে যে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরাময় করাই এই সাধারণ ক্ষমা আইনের মূল উদ্দেশ্য। তিনি ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিকে জরুরি ভিত্তিতে বিলটি পাস করার আহ্বান জানান, যাতে নাগরিক সহাবস্থান ও ন্যায়বিচার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা যায়। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান ঘটবে।
সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পাশাপাশি রদ্রিগেজ রাজধানী কারাকাসের কুখ্যাত ‘এল হেলিকয়েড’ কারাগার বন্ধের সিদ্ধান্তের কথাও জানান। দীর্ঘদিন ধরে গোপন গোয়েন্দা সংস্থার বন্দিশালা হিসেবে পরিচিত এই কারাগারে নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। তিনি জানান, কারাগারটি ধ্বংস না করে সেটিকে সাধারণ মানুষের জন্য একটি ক্রীড়া, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে।
মানবাধিকার সংস্থা ‘ফোরো পেনাল’-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন কারাগারে ৭১১ জন রাজনৈতিক বন্দি রয়েছেন। মাদুরোর নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন সরকার ইতোমধ্যে ৩০২ জন রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। সংস্থাটির সভাপতি আলফ্রেডো রোমেরো এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও সতর্ক করে বলেন, সাধারণ ক্ষমা যেন কোনোভাবেই বৈষম্যমূলক না হয় এবং অপরাধীদের দায়মুক্তির সুযোগ সৃষ্টি না করে।
সরকারের ঘোষণার পরপরই কয়েকজন মানবাধিকার কর্মীর মুক্তির খবর পাওয়া গেছে, যা ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।






















