নিজস্ব প্রতিবেদক : খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসানকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ ও সমালোচনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে তাঁর কর্মকাণ্ড নিয়ে নগরবাসী ও পুলিশের একটি অংশের মধ্যেও নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান কেএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর খুলনা মহানগরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও ধর্ষণের মতো অপরাধের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সর্বশেষ আজ শুক্রবার বটিয়াঘাটা উপজেলার এক ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য গাজী রফিক (৪৫) খুলনা মেট্রোপলিটন এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন। এ ঘটনাসহ সাম্প্রতিক অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানান।
এদিকে, কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসানের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হয়েছেন এবং সেই অর্থ দিয়ে নামে-বেনামে জমি ও ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। এমনকি দুটি জাহাজ কেনার অভিযোগও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব বিষয় নিয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কেএমপি কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “একটি আইডি থেকে এসব কথা লেখা হয়েছে। ওই আইডিটি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
খুলনার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “খুলনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগেও খারাপ ছিল, এখনও কিছু সমস্যা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাজ করছে। এর আগে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা ঘটেছিল, ওই মামলার কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজও একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব বিষয়ে আমরা গুরুত্ব সহকারে কাজ করছি।”
নিজের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অন্যান্য অভিযোগ প্রসঙ্গে কেএমপি কমিশনার বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে খুলনাজুড়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজন হলে যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিত, যাতে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে আসে।





















