• আজ ৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ|১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
শিরোনাম
 কেএমপি কমিশনার জাহিদুল হাসানকে ঘিরে বিতর্ক, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোচনা | খুলনা বিভাগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ডিআইজি রেজাউল হক, অপপ্রচার নিয়ে প্রশ্ন | পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল ও স্বপ্নার ফাঁসির আদেশ | কারা অধিদপ্তরে ‘বিশেষ আস্থাভাজন’ কে এই নূর-ই আলম সিদ্দিকী? আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে প্রশ্নের মুখে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার | অন্তর্বর্তী সরকারে হামের টিকা আমদানি হয়নি : প্রধানমন্ত্রী | প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নোয়াব নেতাদের বৈঠক | দুর্নীতি ও ভুল নীতিতে স্বাস্থ্যখাত বিপর্যস্ত: প্রতিমন্ত্রী মুহিত | সাত জেলায় ই-বেইলবন্ড চালু, বিচার ব্যবস্থায় ডিজিটাল অগ্রগতির সূচনা | খাতা মূল্যায়নে কঠোরতা, ‘যা লিখবে তাই নম্বর’—শিক্ষামন্ত্রী মিলন | বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন কাল, প্রস্তুতি সম্পন্ন |

খুলনা বিভাগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ডিআইজি রেজাউল হক, অপপ্রচার নিয়ে প্রশ্ন

| অনলাইন ডেস্ক ১০:২৫ অপরাহ্ণ | জুন ১১, ২০২৬ জাতীয়, ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক : মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে খুলনা বিভাগজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হক। তবে ঠিক এমন সময়েই একটি স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সূত্রগুলো মনে করছে, অপরাধ দমনে তার সক্রিয় ভূমিকার কারণে ক্ষুব্ধ একটি গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগে ব্যাপক রদবদল ও সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় বিভিন্ন কর্মকর্তাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও অভিযোগ সামনে আসে। সম্প্রতি খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হককে নিয়েও একাধিক পোস্ট ভাইরাল হয়। তবে অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন একাদিক সূত্র।

১৮তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. রেজাউল হক বর্তমানে খুলনা রেঞ্জের দায়িত্ব পালন করছেন। সহকর্মী, স্থানীয় সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দায়িত্ব পালনে তিনি কঠোরতা ও মানবিকতার সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খুলনা রেঞ্জে যোগদানের পর থেকেই সাধারণ মানুষের জন্য পুলিশি সেবা আরও সহজলভ্য করতে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। অভিযোগকারী বা ভুক্তভোগীরা যাতে দ্রুত সেবা পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন কিংবা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য না হন, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

পুলিশের একাধিক সূত্রের দাবি, কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম বা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বিভাগজুড়ে জবাবদিহিতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খুলনা অঞ্চলে মাদক ব্যবসা, চোরাচালান, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ডিআইজি রেজাউল হক জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছেন। তার নেতৃত্বে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে অপরাধচক্রের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে অসাধু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খুলনার একাধিক গণমাধ্যমকর্মী জানান, পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তারা ডিআইজি রেজাউল হকের সহযোগিতা পেয়েছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি পেশাদার ও ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখেন এবং তথ্য প্রদানে সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব প্রদর্শন করেন বলেও তারা উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অতীত কর্মস্থল, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা কিংবা বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে যেসব দাবি করা হচ্ছে, সেগুলোর পক্ষে অনুসন্ধানে কোনো দালিলিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সচেতন মহলের মতে, যাচাই-বাছাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য বিভ্রান্তির জন্ম দিতে পারে এবং দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের পেশাগত কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, কোনো কর্মকর্তার মূল্যায়ন হওয়া উচিত তার পেশাগত দক্ষতা, সততা এবং দায়িত্ব পালনের ভিত্তিতে। তাদের মতে, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রাখতে সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের জন্য স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রেও তথ্য-প্রমাণভিত্তিক যাচাই প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

সংশ্লিষ্টদের অভিমত, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধ দমনে দৃশ্যমান ভূমিকার কারণে ডিআইজি মো. রেজাউল হক বর্তমানে খুলনা বিভাগের আলোচিত কর্মকর্তাদের একজন। আর এ কারণেই তাকে ঘিরে অপপ্রচার ও বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণে বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধানের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।