ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি–কমলনগর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং স্থানীয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র মহড়ার অভিযোগে লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে বিএনপির ২৬ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে রামগতি থানা-এ মামলাগুলো করা হয়। ইতোমধ্যে দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এ বিষয়ে এমপি নিজান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিএনপি একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে—কোনো নেতাকর্মী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে পারবে না। নির্বাচনী বিজয়কে পুঁজি করে যারা চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস বা সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালাবে, তাদের দলে স্থান হবে না। অপরাধীর পরিচয় যাই হোক, আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে বলেও তিনি জানান।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলার চর পোড়াগাছা, রামদয়াল বাজার এবং আলেকজান্ডার ইউনিয়নের বালুর চর সুজনগ্রাম এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতাকর্মী সংঘবদ্ধ হয়ে মহড়া দেয়। তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় শক্তি প্রদর্শন করে এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ইটভাটা মালিকদের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে।
চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের ছিদ্দিক উল্লাহর ইটভাটায় গিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। টাকা না পেয়ে শ্রমিকদের মারধর, কাজ বন্ধ এবং মালিককে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। এছাড়া রামদয়াল বাজারে এক ব্যবসায়ীর দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়।
আরেক ঘটনায় চর আলগী ইউনিয়ন ছাত্রদলের কয়েক নেতার নেতৃত্বে ২০–২৫ জনের একটি দল অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দেয় এবং বাজারে ভাঙচুর চালায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব ঘটনায় রামগতি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন ও উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মমিন উল্লাহ ইরাজ বাদী হয়ে পৃথক মামলা করেন। মামলায় ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের ২৬ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।
রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান জানান, অভিযান চালিয়ে মিরাজ ও রিয়াজ নামে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানো হচ্ছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।






















