ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জ জেলায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটিই এ পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৫১৫টি। এর মধ্যে ৬৭টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ইতোমধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি ২২৮টি কেন্দ্রে পুলিশের বডি অন ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি কেন্দ্রে অন্তত একজন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দুজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এছাড়া প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ন্যূনতম তিনজন সশস্ত্র আনসার ও ভিডিপি সদস্য এবং অতিরিক্ত ১০ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পুরো জেলায় নির্বাচনি দায়িত্বে থাকবেন ১ হাজার ২৫০ জন পুলিশ সদস্য।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠে থাকবে ৫৮টি মোবাইল টিম এবং জেলা পুলিশের ১০টি স্ট্রাইকিং ফোর্স। চরাঞ্চলের ভোটকেন্দ্রগুলোতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এসব এলাকায় বাংলাদেশ আর্মড ফোর্সেসের ১ হাজার ২০০ সদস্য এবং ১৬০ জন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবেন।
সব মিলিয়ে সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ হাজার ৬০০ জনের বেশি সদস্য জেলায় দায়িত্ব পালন করবেন। এবারের নির্বাচনে নতুন সংযোজন হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্যদেরও দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বাড়তি নজরদারি থাকবে। ভোটাররা যাতে নিরাপদ পরিবেশে ভোট দিতে পারেন, সে লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে এখন পর্যন্ত বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কিছু ছোটখাটো অভিযোগ পাওয়া গেলেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দূরবর্তী ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
প্রশাসনের প্রত্যাশা, সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে।






















