বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তিনি এক শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য। তার ভাই মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। তবে বর্তমান বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি দেখলে তিনি (ভাই) হয়তো মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে হবিগঞ্জে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে এখনো নারীরা ঘরের ভেতরে নিরাপদ নন, বাইরে চলাচল কিংবা কর্মস্থলেও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। চাঁদাবাজি, মামলাবাজি ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ চরম অস্থিরতায় রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন—এমন বাংলাদেশ কি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে প্রত্যাশিত ছিল?
তিনি আরও বলেন, রণাঙ্গনের অনেক মুক্তিযোদ্ধা কিংবা তাদের সন্তানরা আজকের এই সমাবেশে উপস্থিত আছেন। তাদের মতো তিনিও একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য। তার ভাষায়, বর্তমান বাস্তবতা দেখলে তার শহীদ ভাই হয়তো মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতেন।
দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন না হওয়ার পেছনে অসৎ নেতৃত্বই দায়ী। নির্বাচন এলেই নেতারা নানা প্রতিশ্রুতি দেন, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিতে দেশ ভাসিয়ে দেন; কিন্তু নির্বাচন শেষে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না।
ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে জামায়াতে ইসলামী সব ধর্মাবলম্বীর নিরাপদে ধর্মীয় উৎসব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করবে। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি ইসলাম সমর্থন করে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় পাহারায় জামায়াতের নেতাকর্মীরা ভূমিকা রেখেছেন এবং ভবিষ্যতেও ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে বঞ্চিত হতে দেওয়া হবে না।
জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কাজী মুখলিছুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সেক্রেটারি ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী কাজী মহসিন আহমদ সঞ্চালনা করেন। সভায় সিলেট বিভাগের চারটি আসনে জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন ডা. শফিকুর রহমান।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন—খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রীয় আমির ও হবিগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ, হবিগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী ড. আহমদ আব্দুল কাদের বাচ্চু, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, জাগপা ভাইস চেয়ারম্যান রাশেদ প্রধানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।





















