• আজ ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ|৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
শিরোনাম
 কারা অধিদপ্তরে ‘বিশেষ আস্থাভাজন’ কে এই নূর-ই আলম সিদ্দিকী? আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে প্রশ্নের মুখে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার | অন্তর্বর্তী সরকারে হামের টিকা আমদানি হয়নি : প্রধানমন্ত্রী | প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নোয়াব নেতাদের বৈঠক | দুর্নীতি ও ভুল নীতিতে স্বাস্থ্যখাত বিপর্যস্ত: প্রতিমন্ত্রী মুহিত | সাত জেলায় ই-বেইলবন্ড চালু, বিচার ব্যবস্থায় ডিজিটাল অগ্রগতির সূচনা | খাতা মূল্যায়নে কঠোরতা, ‘যা লিখবে তাই নম্বর’—শিক্ষামন্ত্রী মিলন | বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন কাল, প্রস্তুতি সম্পন্ন | তারেক রহমান ও কোকোকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ স্বীকৃতির দাবি এমপি মুজিবুর রহমানের | পটুয়াখালী কারাগারের দুর্নীতি নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশে তোলপাড়। এডিএম ও জেল সুপারের দফায় দফায় বৈঠক, অভিযোগ ধামাচাপার নানা কৌশল | অভিযোগের তীর এডিএম এর দিকে পটুয়াখালী কারাগারের ক্যান্টিন বাণিজ্য, কারারক্ষীদের অসন্তোষ। পর্ব-৩ |

ভোটের মাঠে গণজোয়ার: গোপালগঞ্জ–৩ এ আস্থার নাম এস এম জিলানী।

| অনলাইন ডেস্ক ৮:৩৬ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ জাতীয়, ব্রেকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক : টুঙ্গিপাড়া–কোটালীপাড়া নিয়ে গঠিত গোপালগঞ্জ–৩ আসনে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জাগরণ। দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির একচেটিয়া আধিপত্যের মধ্যে থাকা এই আসনে এবার পরিবর্তনের স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এস এম জিলানী।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠে নেমেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন তিনি। প্রতিদিন গ্রাম, হাট-বাজার, মসজিদ প্রাঙ্গণ, চায়ের দোকান ও জনসমাগমস্থলে তার গণসংযোগে বাড়ছে মানুষের ঢল। সর্বত্রই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু— “এবার কি সত্যিই পরিবর্তন আসছে?” দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও মানুষের ক্ষোভ স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাধীনতার পর থেকে টুঙ্গিপাড়া–কোটালীপাড়ার মানুষ বারবার ভোট দিলেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন পায়নি। উন্নয়নের নামে অনেক প্রকল্প এলেও তার সুফল সাধারণ মানুষের ঘরে পৌঁছায়নি। বেহাল সড়ক ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধার অভাব, মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংকট ও যুবসমাজের কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি করেছে। এই জমে থাকা ক্ষোভই আজ পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষায় রূপ নিয়েছে।

সংগ্রামী নেতা এস এম জিলানীর রাজনৈতিক জীবন সংগ্রাম ও ত্যাগের প্রতিচ্ছবি :

ধানের শীষের রাজনীতি করতে গিয়ে তাকে সহ্য করতে হয়েছে মামলা, হামলা ও দমন-পীড়ন। তবুও তিনি কখনো রাজপথ ছাড়েননি। ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর তার ওপর সংঘটিত নৃশংস হামলায় তিনি ও তার সহধর্মিণী গুরুতর আহত হন এবং তার এক ঘনিষ্ঠ সহকর্মী শহীদ হন। সেই ঘটনার পরও তিনি প্রতিশোধ নয়, শান্তি ও মানবিকতার বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “সাহস মানে প্রতিহিংসা নয়, সাহস মানে মানুষের পাশে থাকা।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সালাউদ্দিন বলেন, “এই আসনে মানুষ বহু বছর শাসন দেখেছে, সেবা দেখেনি। এস এম জিলানীর মাধ্যমে তারা একজন প্রকৃত অভিভাবক পাচ্ছে।

যুবদল সভাপতি মুক্তার হোসেন বলেন, “যে মানুষ নির্যাতিত হয়েও মানুষের প্রতি ভালোবাসা হারায় না, সেই মানুষই আগামীর বাংলাদেশ গড়তে পারে।

যুবদল সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, “আজকের যুবসমাজ পরীক্ষিত ও সংগ্রামী নেতা চায়। এস এম জিলানী আমাদের সেই আস্থার নাম।” এছাড়াও বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা মনে করেন, আসন্ন নির্বাচনে তার বিজয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

মানুষের দোরগোড়ায় রাজনীতি :

এস এম জিলানীর রাজনীতি কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি মানুষের ঘরে যান, মাটিতে বসে কথা বলেন, শোনেন কৃষকের কষ্ট, মায়ের চিকিৎসার দুশ্চিন্তা, যুবকের কর্মসংস্থানের সমস্যা। তার কণ্ঠে বারবার শোনা যায়— “আমি ক্ষমতার জন্য এমপি হতে চাই না। আমি মানুষের পাশে থাকতে চাই। একবার সুযোগ দিন—পরীক্ষা দিতে চাই।” এই বিনয়ী ও মানবিক ভাষাই তাকে মানুষের কাছে আলাদা করেছে।

‘হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা’ উপমা :

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এস এম জিলানীর নেতৃত্বে যে জনস্রোত তৈরি হয়েছে, তা আধুনিক রাজনীতিতে বিরল। কোনো ভয় বা লোভ নয়—শুধু বিশ্বাসের টানে মানুষ তার পাশে দাঁড়াচ্ছে। এ কারণেই অনেকে তাকে আখ্যা দিচ্ছেন— “আধুনিক রাজনীতির হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা।

উন্নয়ন ও মানবিকতার অঙ্গীকার :

নির্বাচিত হলে এস এম জিলানীর অগ্রাধিকার— দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা যুবকদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা সহায়তা কৃষক ও শ্রমজীবীদের ন্যায্য অধিকার মতের ভিন্নতায় সহনশীল সমাজ তিনি বলেন, “একবার সুযোগ পেলে এই জনপদকে গর্বের জায়গায় পরিণত করব।

উপসংহার: ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে গোপালগঞ্জ–৩

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ–৩ আসনে এখন স্পষ্ট রাজনৈতিক জাগরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটি কেবল একটি নির্বাচন নয়—দীর্ঘদিনের অবদমন ভেঙে নতুন অধ্যায় রচনার সুযোগ। ধানের শীষের এই জোয়ার শেষ পর্যন্ত ব্যালট বাক্সে কী রূপ নেয়, সেটিই এখন সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। তবে এটুকু নিশ্চিত—টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ার মানুষ এবার আর নীরব নয়। তারা পরিবর্তনের পথে হাঁটতে প্রস্তুত, তারা ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত।