• আজ ২০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ|৪ঠা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
শিরোনাম
 হাইওয়ে পুলিশের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদ | কেএমপি কমিশনার জাহিদুল হাসানকে ঘিরে বিতর্ক, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোচনা | খুলনা বিভাগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ডিআইজি রেজাউল হক, অপপ্রচার নিয়ে প্রশ্ন | পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল ও স্বপ্নার ফাঁসির আদেশ | কারা অধিদপ্তরে ‘বিশেষ আস্থাভাজন’ কে এই নূর-ই আলম সিদ্দিকী? আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে প্রশ্নের মুখে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার | অন্তর্বর্তী সরকারে হামের টিকা আমদানি হয়নি : প্রধানমন্ত্রী | প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নোয়াব নেতাদের বৈঠক | দুর্নীতি ও ভুল নীতিতে স্বাস্থ্যখাত বিপর্যস্ত: প্রতিমন্ত্রী মুহিত | সাত জেলায় ই-বেইলবন্ড চালু, বিচার ব্যবস্থায় ডিজিটাল অগ্রগতির সূচনা | খাতা মূল্যায়নে কঠোরতা, ‘যা লিখবে তাই নম্বর’—শিক্ষামন্ত্রী মিলন |

ডিবি হারুন ও মনিরুলসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

| অনলাইন ডেস্ক ১:৩২ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ জাতীয়, ব্রেকিং

২০১৬ সালে গাজীপুরের পাতারটেক এলাকায় কথিত ‘জঙ্গি আস্তানা’ নাটক সাজিয়ে সাতজনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক সাবেক কর্মকর্তাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। দীর্ঘ তদন্তের পর এই ঘটনায় প্রথমবারের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, অভিযোগ গ্রহণ সংক্রান্ত শুনানি শেষে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ, পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের তৎকালীন প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম, সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক, সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া। প্রসিকিউশন জানায়, অন্যান্য কর্মকর্তারাও ওই সময় বিভিন্ন পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও অপারেশন বাস্তবায়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ওই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি দল পরিকল্পিতভাবে একটি ভুয়া ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে সাতজনকে হত্যা করে। ঘটনাটি সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে প্রচার করা হলেও তদন্তে উঠে আসে, নিহতরা বিচারবহির্ভূতভাবে নিহত হয়েছেন এবং পুরো ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত ছিল।

দীর্ঘ তদন্তের পর সাক্ষ্যগ্রহণ, নথি যাচাই ও আলামত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে মামলার প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জমা দেয় তদন্ত সংস্থা। প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অভিযোগ গঠনযোগ্য মনে করে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত সাতজনের একজন ছিলেন ইবরাহীম, যাত্রাবাড়ীর একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। পরিবারের দাবি, ইবরাহীম কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের ঘটনা নিয়ে নতুন করে অভিযোগ জানাতে পারার সুযোগ তৈরি হলে ইবরাহীমের বাবা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে ছেলের গুম ও হত্যার অভিযোগ দায়ের করেন। এই অভিযোগই পরবর্তীতে মামলার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়।