• আজ ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ|৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
শিরোনাম
 কারা অধিদপ্তরে ‘বিশেষ আস্থাভাজন’ কে এই নূর-ই আলম সিদ্দিকী? আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে প্রশ্নের মুখে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার | অন্তর্বর্তী সরকারে হামের টিকা আমদানি হয়নি : প্রধানমন্ত্রী | প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নোয়াব নেতাদের বৈঠক | দুর্নীতি ও ভুল নীতিতে স্বাস্থ্যখাত বিপর্যস্ত: প্রতিমন্ত্রী মুহিত | সাত জেলায় ই-বেইলবন্ড চালু, বিচার ব্যবস্থায় ডিজিটাল অগ্রগতির সূচনা | খাতা মূল্যায়নে কঠোরতা, ‘যা লিখবে তাই নম্বর’—শিক্ষামন্ত্রী মিলন | বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন কাল, প্রস্তুতি সম্পন্ন | তারেক রহমান ও কোকোকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ স্বীকৃতির দাবি এমপি মুজিবুর রহমানের | পটুয়াখালী কারাগারের দুর্নীতি নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশে তোলপাড়। এডিএম ও জেল সুপারের দফায় দফায় বৈঠক, অভিযোগ ধামাচাপার নানা কৌশল | অভিযোগের তীর এডিএম এর দিকে পটুয়াখালী কারাগারের ক্যান্টিন বাণিজ্য, কারারক্ষীদের অসন্তোষ। পর্ব-৩ |

অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যের বাড়িতে হামলা: প্রধান আসামি গ্রেফতার

| অনলাইন ডেস্ক ৭:৪৬ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ ব্রেকিং, সারাবাংলা

সাভারের আশুলিয়ায় অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা সদস্যের বসতবাড়িতে দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মো. আতিকুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার ভোরে আশুলিয়া থানার দক্ষিণ গাজীরচট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আতিকুর রহমান (৩৭) ধামসোনা ইউনিয়নের দক্ষিণ গাজীরচট শের আলী মার্কেট এলাকার বাসিন্দা হাসমত আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে ধামসোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত এবং নিষিদ্ধ সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীবের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে জানা গেছে।

মামলার বাদী মো. ফজলুল হক আতিকুর রহমানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। এজাহার সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ গাজীরচট এলাকায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণের পর থেকেই পরিবারসহ সেখানে বসবাস করে আসছেন তিনি।

অভিযোগ রয়েছে, জমি ও বাড়ি দখলের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে আতিকুর রহমান ও তার সহযোগীরা তাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন। গত ৩০ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আতিকুর রহমান ও তার লোকজন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বসতবাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালায়। এ সময় পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হলে বাদীর স্ত্রী, মেয়ে ও পুত্রবধূ আহত হন।

হামলাকারীরা বাড়ির চারপাশে স্থাপিত চারটি সিসিটিভি ক্যামেরা, দোকানের সামনে থাকা চারটি বৈদ্যুতিক মিটার এবং একটি সাবমার্সিবল মোটর ভাঙচুর করে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে আবারও বাড়িতে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে বাড়ির এসির আউটডোর ইউনিটে আগুন জ্বলতে দেখে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেলেও প্রায় ৬০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়।

ঘটনার পর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে আতিকুর রহমানসহ কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পায় পুলিশ। এর ভিত্তিতে মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৫ আগস্টের পর থেকে আতিকুর রহমান আত্মগোপনে ছিলেন। নির্বাচনের আগে এলাকায় ফিরে এলে তার বিরুদ্ধে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। জুলাই আন্দোলনে হামলা, নির্যাতন ও ছাত্র হত্যাসহ তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে।

এ ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করায় এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুবেল হাওলাদার জানান, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।